যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে তুলা রফতানি সাম্প্রতিক মাসগুলোয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা, যুক্তরাষ্ট্রে তুলার মূল্যহ্রাস ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে চাহিদা বৃদ্ধিই এ প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা। খবর রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে তুলা রফতানি বেড়ে ১ লাখ ৫৫ হাজার বেলে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি। গত বছরের ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল পর্যন্ত এ পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ৯০১ বেল।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, রফতানি বৃদ্ধির পেছনে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনার ভূমিকা রয়েছে। চীন জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে শুল্ক ৮৪ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ করবে।
কেদিয়া অ্যাডভাইজরসের পরিচালক অজয় কেদিয়া জানান, এ শুল্কবৃদ্ধি ও চীনে চাহিদা কমে যাওয়ায় টেক্সাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত তুলা এখন ভারতের বাজারে প্রবেশ করছে। অন্যদিকে চীনে রফতানি আরো কমে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন অল্টারনেটিভ অপশনের হেড অব রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজি জাস্টিন কার্ডওয়েল।
চীনের পর ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তুলা উৎপাদনকারী দেশ এবং তুলা সুতা প্রক্রিয়াকরণ ও রফতানিতে বিশ্বে অন্যতম। তবে উৎপাদন কমে যাওয়ায় ভারত বর্তমানে তুলার নিট রফতানিকারক থেকে নিট আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে।
ভারত প্রধানত যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক্সট্রা লং স্ট্যাপল (ইএলএস) তুলা আমদানি করে, যা ১০ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের আওতায় রয়েছে। তবে স্বল্প দৈর্ঘ্যের তুলার ওপর ১১ শতাংশ আমদানি শুল্ক বিদ্যমান।
অজয় কেদিয়া বলেন, ‘ভারতীয় ক্রেতাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ইএলএস তুলার চাহিদা বেশি। কারণ এতে জিনিং দক্ষতা বেশি, লিন্ট উৎপাদন ভালো হয় ও ফাইবারের গুণগত মানও উন্নত।’